জাতীয় কর্মপরিকল্পনা(খসড়া) প্রণয়ন কর্মশালা

workshop on national strategy for rights and protection act of Person with Disability

২৭ – ২৮ মার্চ ২০১৭ সকাল ৯:০০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত “আপন উদ্যোগ ফাউণ্ডেশন” লালমাটিয়া, ঢাকা

জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন ইতোপূর্বে তৈরীকৃত প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩ এর কর্মপরিকল্পনাটি অধিক সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে এবং নিউরো ডেভেলাপমেন্টাল সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন, ২০১৩, এসডিজি, সপ্তম পঞ্চম বার্ষিকী পরিকল্পনা ইনচিওন স্ট্রাটিজি প্রভৃতি দলিলসমূহের আলোকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা প্রনয়ণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এরই প্রেক্ষিতে গত ১৯ অক্টোবর, ২০১৬ অনুষ্ঠিত জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামের আইন ও নীতিমালা বিষয়ক কমিটির ৪৫ তম সভায় জাতীয় কর্মপরিকল্পনার (খসড়া) তৈরীতে প্রাথমিক ভাবে কর্মদলের সদস্যগনের নাম প্রস্তাব করা হয়। জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন বিগত ০১ মার্চ, ২০১৭ তারিখে জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামকে প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনার (খসড়া) প্রণয়নের জন্য পত্র প্রেরণ করে। কর্মদলটি কয়েকটি সভা করে। সভার সিদ্ধান্তের আলোকে জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরাম গত ২৭ – ২৮ মার্চ ২০১৭ সকাল ৯:০০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত দুইদিন ব্যাপী জাতীয় কর্মপরিকল্পনা(খসড়া) প্রণয়ন কর্মশালা “আপন উদ্যোগ ফাউণ্ডেশন” (বাড়ি-৮/১৪, ব্লক-সি, লালমাটিয়া, ঢাকা-১২০৭, মিনার মসজিদের বিপরীত দিকে) আয়োজন করে। কর্মশালায় জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (খসড়া) প্রণয়ন বিষয়ক কর্মদলের সদস্যগণ ছাড়াও প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে কর্মরত সংগঠনের প্রতিনিধিগণ এবং জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামের সভাপতি, মহাসচিব ও জাতীয় নির্বাহী সদস্যগণের মধ্যে প্রতিবন্ধী সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবন্ধী শিশুদের অরক্ষিত অবস্থা বিষয়ক গবেষণার তথ্যবিনিময়ে জাতীয় সেমিনার

Audience of the program

১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন (বিএমএ), ঢাকা

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন (বিএমএ), ঢাকাতে ‘নিম্ন আয়ের পরিবারের প্রতিবন্ধী শিশুদের অরক্ষিত অবস্থা বিষয়ক গবেষণার তথ্য বিনিময় সেমিনার’ অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারের উদ্দেশ্য হলো- সম্প্রতি প্রতিবন্ধী শিশু যারা পথঘাটে, বস্তিতে ও বাড়িতে বসবাস করে তাদের অরক্ষিত অবস্থা নিয়ে সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশ একটি গবেষণা করেছে। এই গবেষণাপত্রের তথ্যসমূহ তথা পথ শিশু, বস্তিবাসি শিশু ও বাড়িতে বসবাসকারি শিশুরা তাদের জীবন যাপনে যে অরক্ষিত অবস্থার শিকার হয় তা সরকারের উর্দ্ধতন কর্তৃপকক্ষ, বেসরকারি সংস্থা/প্রতিষ্ঠান ও প্রতিবন্ধী শিশুদের যতœদানকারি ও অভিভাবকদের নজরে আনা ও অরক্ষিত অবস্থা উত্তরণের জন্য তাদেরকে উদ্যোগী করা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেছিলেন জনাব মোঃ জিল্লার রহমান, সচিব, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব সুশান্ত কুমার প্রামাণিক, অতিরিক্ত সচিব (প্রতিষ্ঠান ও প্রতিবন্ধিতা), সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, খোন্দকার মোস্তান হোসেন, যুগ্ম সচিব (রপ্তানীমুখী শিল্প ও আইন), শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জনাব জুলফিকার হায়দার, পরিচালক (প্রতিষ্ঠান), সমাজসেবা অধিদফতর। প্রধান অতিথি বক্তব্যের শুরুতে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে প্রশ্ন/মতামত আহ্বান করেন। তার প্রেক্ষিতে অংশগ্রহণকারীগণ জানান যে, চলাচলের রাস্তা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উপযোগী নয়, মার্কেটগুলো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য প্রবেশগম্য নয়, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ছেলে ও মেয়েদের একই হোস্টেলে রাখার ব্যবস্থা করা হয় যার ফলে নানা দুর্ঘটনা ঘটে, পিএইচটিসি কে উচ্চ বিদ্যালয়ে উন্নীত করা ও স্টাফদের সেবামান উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান, স্টাফ ঘাটতি পূরণে ব্যবস্থা গ্রহণ, একইভূত শিক্ষা বাস্তবায়ন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইনের জেলা ও উপজেলা কমিটি সক্রিয় করা, অবকাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের সাথে সমন্বয় বাড়ানো, মিডিয়াতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সক্ষমতা নিয়ে প্রচার প্ররাচরণা চালানো।

প্রধান অতিথি বিষয়গুলোর উপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, আর্থিক কালচারের উপর সংস্কৃতি নির্ভর করে। প্রতিবন্ধিতার জন্য অতিরিক্ত খরচ করতে হয়। এ খরচের সংস্থান আমাদের করতে হবে। উন্নত দেশগুলোতে সেবা বাসায় দিয়ে আসা হয়। আমাদেরও সে চর্চা শুরু করতে হবে। প্রতিবন্ধী ও অপ্রতিবন্ধী শিশুরা একসাথে পড়াশোনা করবে। বিশেষ অতিথি জনাব সুশান্ত কুমার প্রামাণিক বর্তমান সরকারকে প্রতিবন্ধী বান্ধব সরকার উল্লেখ করে বলেন তাদের মন্ত্রণালয় প্রতিবন্ধী শনাক্তকরণ জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করছে; এ পর্যন্ত ১৫ লক্ষ ৯ হাজার ৮১৬ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে যেখানে তাদের চাহিদা নিরূপণ করা হয়েছে। তাদের চাহিদা মোতাবেক সরকার সহায়তা দিয়ে যাবে। বিশেষ অতিথি জনাব খোন্দকার মোস্তান হোসেন জানান শ্রম আইন অনুযায়ী ১৪ বছরের নীচে কোনো শিশুকে কাজে নিযুক্ত করা যাবে না। ১৪-১৮ বৎসরের শিশুকে কোনো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ দেওয়া যাবে না। অরক্ষিত শিশুদের ঝুঁকি মোকাবেলায় সামাজিক সচেতনতার উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ অতিথি জনাব জুলফিকার হায়দার জানান সমাজসেবা অধিদফতর প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তাদের পরিসংখ্যান নেই সেটা আমরা বলতে পারি না। সমাজসেবা অধিদফতর প্রতিবন্ধী শিশুদের আবাসিক শিক্ষা, সমন্বিত শিক্ষা, শিক্ষা উপবৃত্তি, প্রতিবন্ধী ভাতা ইত্যাদি প্রদান করে তাদের অরক্ষিত অবস্থা নিরসনে কাজ করছে। জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামের সভাপতি ও সেমিনারের সভাপতি জনাব রজব আলি খান নজিব প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে প্রতিবন্ধী মানুষের মোর্চা হিসেবে জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামকে সম্পৃক্ত করার জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি জাতীয় কর্মপরিকল্পনায় প্রতিবন্ধী শিশুদের ঝুঁকির বিষয়গুলো তুলে আনার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন। জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামের মহসাসচিব ড. সেলিনা আখতার প্রতিবন্ধী শিশুদের এ অরক্ষিত অবস্থার উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন যেন তারা এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

অংশগ্রহণকারীদের সুপারিশমালা:

  • আবাসিক প্রতিষ্ঠানের পদগুলো বদলীযোগ্য বলে প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনায় প্রায়ই সমস্যা হয়। এছাড়া প্রতিবন্ধী শিশুদের মোকাবেলা বিষয়ে তাদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।
  • গবেষণায় পথ শিশুদের সংখ্যা কম এসেছে, এদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে।
  • বিদ্যালয়ে ও কর্মস্থলে শিশুদের ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করা হয়, এতে করে শিশুরা পড়াশোনার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে; এ ব্যাপারে সচেতনতা তৈরির কাজ করতে হবে।
  • বাবা, মায়েরা প্রতিবন্ধী শিশুদের ক্ষেত্রে যে বৈষম্য তৈরি করে সেক্ষেত্রে তাদের দায়িত্ববোধ তৈরির জন্য কাজ করতে হবে।
  • গণমাধ্যমে প্রতিবন্ধী শিশুদের ঝুঁকির বিষয়গুলো বেশি করে প্রচার করতে হবে।
  • জাতীয় কর্মপরিকল্পনায় ঝুঁকির বিষয়গুলো অন্তর্ভক্ত হতে হবে।
  • গবেষণা কার্যক্রম যেখানে দারিদ্র বেশি, যোগাযোগ ব্যবস্থা অপেক্ষাকৃত খারাপ, নদী ভাঙ্গন রয়েছে ইত্যাদি এলাকায় করতে হবে।

সেমিনারে ৭৫জন অংশগ্রহণকারী ছিলেন যারা সকারি কর্মকর্তা, প্রতিবন্ধিতা নিয়ে কর্মরত বেসরকারি সংস্থা, সাংবাদিক, আইনজীবী, প্রতিবন্ধী শিশুদের আবাসিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, শিক্ষক, প্রতিবন্ধী শিশু, প্রতিবন্ধী শিশুর অভিভাবক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রনয়নের কর্মদলের প্রথম সভা

meeting on national strategy

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ বেলা ৩:০০টা জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামের সভাকক্ষ‌ে

প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রনয়ণের কর্মদলের প্রথম সভায় ড. সেলিনা আক্তার, মহাসচিব, জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরাম, উপস্থিত সকল সদস্যদের শুভেচ্ছা জানিয়ে সভার কাজ শুরু করেন। অতঃপর তিনি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রনয়ণে এ যাবৎকালীন সকল কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি তার বক্তব্যে বিগত সময়ে বিভিন্ন আইন, নীতিমালা, ও কর্মপরিকল্পনা প্রনয়ণে সরকারের সহযোগী হিসেবে কার্যক্রম সম্পাদনে জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করেন। এছাড়াও তিনি উল্লেখ করেন যে, অতীতের ন্যায় এবারও সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা খসড়া প্রনয়ণে সরকারের সহযোগী হিসেবে জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামকে দায়িত্ত্ব পালনের মৌখিক সম্মতি প্রদান করে। অতঃপর তিনি ডাঃ নাফিসুর রহমানকে সভাটি পরিচালনার দায়িত্ত্ব দেন। ডাঃ নাফিসুর রহমান তার বক্তব্যের শুরুতেই জাতীয় কর্মপরিকল্পনার সর্বশেষ খসড়া প্রনয়ণে সহযোগিতার জন্য এ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন কে ধন্যবাদ জানান এবং জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক দলিল সমূহের আলোকে কর্মপরিকল্পনা প্রনয়ণের প্রয়োজনীয়তা ব্যক্ত করেন। এরপর আলোচ্যসূচী অনুযায়ী আলোচনা শুরু হয় এবং এর প্রেক্ষিতে নিম্নে উল্লেখিত সিদ্ধান্তসমূহ গৃহিত হয়।

আলোচ্যসূচী- ১ :

দলের কর্মপরিকল্পনা তৈরী ও দায়িত্ত্ব বন্টন

১. সভায় সর্বসম্মতিক্রমে জনাব আশরাফুন নাহার মিষ্টিকে কর্মদলের সদস্য হিসেবে অর্ন্তভূক্ত করণের অনুমোদন হয়।

২. এ বিষয়ে অতিসত্তর সরকারের নিকট থেকে লিখিত অনুমতি সংগ্রহ করা।

৩. ১ম ধাপে জাতীয় ও আর্ন্তজার্তিক দলিলসমূহের প্রতিফলনে কর্মপরিকল্পনার প্রাথমিক কাঠামো তৈরীর লক্ষ্যে ৩ দিন ব্যাপী কর্মশালার আয়োজন করা। কর্মশালার স্থান হিসেবে কুমিল্লা র্বাডকে প্রাথমিক ভাবে নির্বাচন করা হয়।

৪. ২য় ধাপে প্রাথমিক কাঠামো তৈরীর পর এর উপর প্রতিবন্ধিতা নিয়ে কর্মরত সংগঠনসমূহের (ডিপিও) মতামত সংগ্রহের জন্য কর্মশালার আয়োজন করা ।

৫. ৩য় ধাপে বিভাগীয় পর্যায়ে সরকারী -বেসরকারী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ব্যক্তিবর্গ তথা অংশীজনের মতামত সংগ্রহের জন্য কর্মশালার আয়োজন করা।

৬. ৪র্থ বা শেষ ধাপে সংশ্লিষ্ট সকলের মতামতের আলোকে কর্মপরিকল্পনাটি সমৃদ্ধকরনের পর তা জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা সভার মাধ্যমে উপস্থাপন করা।

আলোচ্যসূচী- ২ :

পূর্ববর্তী জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (খসড়া) পর্যালোচনা

আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ পরবর্তী সভার তারিখ নির্ধারন করা হয়।

আলোচ্যসূচীতে আর কোন বিষয় না থাকায় ড. সেলিনা আক্তার, মহসচিব, জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরাম সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।