চট্রগ্রাম বিভাগীয় মতবিনিময় সভা

Chittagong Divisional Exchange Meeting

গত ১৮/০৮/২০২১ ইং তারিখ, বুধবার বিকাল- ৪.০০ ঘটিকায় জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরাম কর্তৃক চট্রগ্রাম বিভাগীয় প্রতিনিধিবৃন্দগনের সাথে সম্পন্ন হয় বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদিত প্রতিবন্ধী অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩ ও নিউরো ডেভেলপমেন্টাল সুরক্ষা ট্রাষ্ট আইন ২০১৩ এবং মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন ২০১৮ নিয়ে এক মতবিনিময় সভা। সভার সঞ্চালনা করেন জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরাম এর চট্রগ্রাম বিভাগীয় প্রতিনিধি জনাব মোস্তফা কামাল যাত্রা। এছাড়া অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামের চট্রগ্রাম বিভাগীয় সদস্য সংগঠনের সম্মানিত প্রতিনিধিবৃন্দ। সভায় বক্তারা গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন-২০১৩ এবং নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ও ট্রাষ্ট আইন-২০১৩ এবং মানসিক স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা আইন-২০১৮ এর বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি সরকার স্বীকৃত প্রতিবন্ধীতা বিষয় জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০১৯ নিয়েও বিষদ আলোচনা করা হয়।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাথে মতবিনিময় সভা

exchange meeting with ministry of social welfare

গত ২৪ অক্টোবর ২০২১ জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরাম সমাজ কল্যান মন্ত্রনালয়ের সাথে ১। প্রতিবন্ধী ব্যাক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন -২০১৩ এবং ২।নিউরোডেভলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাষ্ট আইন ২০১৩, আইন দুটির বিধি ও জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে মত বিনিময় সভা আয়োজন করেছে।প্রধান অতিথি -জনাব মাহফুজা আখতার,সচিব সমাজকল্যান মন্ত্রনালয়। বিশেষ অতিথি -অতিরিক্ত সচিব প্রশাসন, মহাপরিচালক সমাজসেবা অধিদপ্তর,ব্যাবস্থাপনা পরিচালক-জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন, সচিব-বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যান পরিষদ,ব্যাবস্থপনা পরিচালক -মৈত্রী শিল্প।

exchange meeting with ministry of social welfare
exchange meeting with ministry of social welfare

সভাপতিত্ব করেন- শিবানী ভট্টাচার্য, অতিরিক্ত সচিব ও উইং প্রতিবন্ধীতা শাখা। এছাড়াও যুগ্ন সচিববৃন্ধ,সহকারী সচিব, কর্মকর্তা, জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরাম এর নেতৃবৃন্দ, সদস্যবৃন্ধ উপস্থিত ছিলেন। সভা পরিচালনা ও আলচ্যপত্র উপস্থাপনা করি আমি ড.সেলিনা আখতার।
মহাসচিব -জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরাম।

exchange meeting with ministry of social welfare
exchange meeting with ministry of social welfare

সভাস্থান-সমাজকল্যান মন্ত্রনালয়ের সভাকক্ষ।

exchange meeting with ministry of social welfare
exchange meeting with ministry of social welfare

এসডিজি (SDG) ভিএনআর (VNR) প্রতিবেদনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি তথ্য অন্তর্ভুক্তকরণে ফোকাস গ্রুপ ডিসকাসন

২৭ এপ্রিল ২০১৭ বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় ফোরামের সভাকক্ষে

জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরাম বাংলাদেশে “সিটিজেনস প্ল্যাটফর্ম অন এসডিজি”এর সক্রিয় সদস্য। এবছরের জুলাই মাসে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য “হাই লেভেল পলিটিক্যাল ফোরামে” বাংলাদেশ সরকার এসডিজি’র অগ্রগতির উপর একটি স্বেচ্ছাপ্রণোদিত প্রতিবেদন দেবার ব্যাপারে অঙ্গীকার করেছে। সরকারের পাশাপাশি সুশীল সমাজের পক্ষে এই সিটিজেনস প্ল্যাটফর্মও একটি প্রতিবেদন জমা

দেবার প্রস্তুতি নিয়েছে। এসডিজি’র মূল স্পিরিট হলো “লীভ নো ওয়ান বিহাইন্ড” অর্থাৎ কাউকে পেছনে ফেলে নয় বা কাউকে বাদ দিয়ে নয়। সে কারণেই এসডিজিতে যেমন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্ট বিষয়সমুহকে যত্নসহকারে সন্নিবেশ করা হয়েছে, তেমনই প্রতিবেদনসমুহেও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অবস্থা বা অবস্থানেরও পৃথক বর্ণনার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পিছিয়ে পড়া অন্যান্য জনগোষ্ঠীর জন্যও একইভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এসডিজি প্রক্রিয়ায়। এই প্রতিবেদনটিতে যেন সঠিকভাবে সকল জনগোষ্ঠীর বাস্তব তথ্য উঠে আসে, সেকারণে প্ল্যাটফর্ম বেশ কিছু ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশন (এফজিডি) আয়োজন করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ এপ্রিল ২০১৭ বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় ফোরামের সভাকক্ষে এফজিডি অনুষ্ঠিত হয়। “সিটিজেনস প্ল্যাটফর্মএর আহবায়ক, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এর সিনিয়র ফেলো এবং বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ডঃ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এটি পরিচালনা করেন। এবারে প্রতিবেদন হবে এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা ১, , , , ৯ এবং ১৪ এর উপর। তাই আলোচনাকে ফলপ্রসূ করার জন্য এই লক্ষ্যমাত্রাসমূহ, এদের টার্গেট, ইন্ডিকেটর এবং এর সাথে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা বিষয়ে আলোচনার জন্য সকল ধরণের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবর্গ, প্রতিনিধি, অভিভাবক, তাদের উন্নয়ন ও অধিকার আদায়ের লক্ষে নিয়জিত ব্যক্তিবর্গ, জাতীয় নির্বাহী সদস্যগণ, জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামের সভাপতি ও মহাসচিব এবং সিপিডিএর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ এতে অংশগ্রহণ করেন।

প্রতিবন্ধী শিশুদের অরক্ষিত অবস্থা বিষয়ক গবেষণার তথ্যবিনিময়ে জাতীয় সেমিনার

Audience of the program

১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন (বিএমএ), ঢাকা

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন (বিএমএ), ঢাকাতে ‘নিম্ন আয়ের পরিবারের প্রতিবন্ধী শিশুদের অরক্ষিত অবস্থা বিষয়ক গবেষণার তথ্য বিনিময় সেমিনার’ অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারের উদ্দেশ্য হলো- সম্প্রতি প্রতিবন্ধী শিশু যারা পথঘাটে, বস্তিতে ও বাড়িতে বসবাস করে তাদের অরক্ষিত অবস্থা নিয়ে সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশ একটি গবেষণা করেছে। এই গবেষণাপত্রের তথ্যসমূহ তথা পথ শিশু, বস্তিবাসি শিশু ও বাড়িতে বসবাসকারি শিশুরা তাদের জীবন যাপনে যে অরক্ষিত অবস্থার শিকার হয় তা সরকারের উর্দ্ধতন কর্তৃপকক্ষ, বেসরকারি সংস্থা/প্রতিষ্ঠান ও প্রতিবন্ধী শিশুদের যতœদানকারি ও অভিভাবকদের নজরে আনা ও অরক্ষিত অবস্থা উত্তরণের জন্য তাদেরকে উদ্যোগী করা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেছিলেন জনাব মোঃ জিল্লার রহমান, সচিব, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব সুশান্ত কুমার প্রামাণিক, অতিরিক্ত সচিব (প্রতিষ্ঠান ও প্রতিবন্ধিতা), সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, খোন্দকার মোস্তান হোসেন, যুগ্ম সচিব (রপ্তানীমুখী শিল্প ও আইন), শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জনাব জুলফিকার হায়দার, পরিচালক (প্রতিষ্ঠান), সমাজসেবা অধিদফতর। প্রধান অতিথি বক্তব্যের শুরুতে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে প্রশ্ন/মতামত আহ্বান করেন। তার প্রেক্ষিতে অংশগ্রহণকারীগণ জানান যে, চলাচলের রাস্তা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উপযোগী নয়, মার্কেটগুলো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য প্রবেশগম্য নয়, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ছেলে ও মেয়েদের একই হোস্টেলে রাখার ব্যবস্থা করা হয় যার ফলে নানা দুর্ঘটনা ঘটে, পিএইচটিসি কে উচ্চ বিদ্যালয়ে উন্নীত করা ও স্টাফদের সেবামান উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান, স্টাফ ঘাটতি পূরণে ব্যবস্থা গ্রহণ, একইভূত শিক্ষা বাস্তবায়ন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইনের জেলা ও উপজেলা কমিটি সক্রিয় করা, অবকাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের সাথে সমন্বয় বাড়ানো, মিডিয়াতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সক্ষমতা নিয়ে প্রচার প্ররাচরণা চালানো।

প্রধান অতিথি বিষয়গুলোর উপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, আর্থিক কালচারের উপর সংস্কৃতি নির্ভর করে। প্রতিবন্ধিতার জন্য অতিরিক্ত খরচ করতে হয়। এ খরচের সংস্থান আমাদের করতে হবে। উন্নত দেশগুলোতে সেবা বাসায় দিয়ে আসা হয়। আমাদেরও সে চর্চা শুরু করতে হবে। প্রতিবন্ধী ও অপ্রতিবন্ধী শিশুরা একসাথে পড়াশোনা করবে। বিশেষ অতিথি জনাব সুশান্ত কুমার প্রামাণিক বর্তমান সরকারকে প্রতিবন্ধী বান্ধব সরকার উল্লেখ করে বলেন তাদের মন্ত্রণালয় প্রতিবন্ধী শনাক্তকরণ জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করছে; এ পর্যন্ত ১৫ লক্ষ ৯ হাজার ৮১৬ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে যেখানে তাদের চাহিদা নিরূপণ করা হয়েছে। তাদের চাহিদা মোতাবেক সরকার সহায়তা দিয়ে যাবে। বিশেষ অতিথি জনাব খোন্দকার মোস্তান হোসেন জানান শ্রম আইন অনুযায়ী ১৪ বছরের নীচে কোনো শিশুকে কাজে নিযুক্ত করা যাবে না। ১৪-১৮ বৎসরের শিশুকে কোনো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ দেওয়া যাবে না। অরক্ষিত শিশুদের ঝুঁকি মোকাবেলায় সামাজিক সচেতনতার উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ অতিথি জনাব জুলফিকার হায়দার জানান সমাজসেবা অধিদফতর প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তাদের পরিসংখ্যান নেই সেটা আমরা বলতে পারি না। সমাজসেবা অধিদফতর প্রতিবন্ধী শিশুদের আবাসিক শিক্ষা, সমন্বিত শিক্ষা, শিক্ষা উপবৃত্তি, প্রতিবন্ধী ভাতা ইত্যাদি প্রদান করে তাদের অরক্ষিত অবস্থা নিরসনে কাজ করছে। জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামের সভাপতি ও সেমিনারের সভাপতি জনাব রজব আলি খান নজিব প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে প্রতিবন্ধী মানুষের মোর্চা হিসেবে জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামকে সম্পৃক্ত করার জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি জাতীয় কর্মপরিকল্পনায় প্রতিবন্ধী শিশুদের ঝুঁকির বিষয়গুলো তুলে আনার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন। জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামের মহসাসচিব ড. সেলিনা আখতার প্রতিবন্ধী শিশুদের এ অরক্ষিত অবস্থার উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন যেন তারা এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

অংশগ্রহণকারীদের সুপারিশমালা:

  • আবাসিক প্রতিষ্ঠানের পদগুলো বদলীযোগ্য বলে প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনায় প্রায়ই সমস্যা হয়। এছাড়া প্রতিবন্ধী শিশুদের মোকাবেলা বিষয়ে তাদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।
  • গবেষণায় পথ শিশুদের সংখ্যা কম এসেছে, এদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে।
  • বিদ্যালয়ে ও কর্মস্থলে শিশুদের ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করা হয়, এতে করে শিশুরা পড়াশোনার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে; এ ব্যাপারে সচেতনতা তৈরির কাজ করতে হবে।
  • বাবা, মায়েরা প্রতিবন্ধী শিশুদের ক্ষেত্রে যে বৈষম্য তৈরি করে সেক্ষেত্রে তাদের দায়িত্ববোধ তৈরির জন্য কাজ করতে হবে।
  • গণমাধ্যমে প্রতিবন্ধী শিশুদের ঝুঁকির বিষয়গুলো বেশি করে প্রচার করতে হবে।
  • জাতীয় কর্মপরিকল্পনায় ঝুঁকির বিষয়গুলো অন্তর্ভক্ত হতে হবে।
  • গবেষণা কার্যক্রম যেখানে দারিদ্র বেশি, যোগাযোগ ব্যবস্থা অপেক্ষাকৃত খারাপ, নদী ভাঙ্গন রয়েছে ইত্যাদি এলাকায় করতে হবে।

সেমিনারে ৭৫জন অংশগ্রহণকারী ছিলেন যারা সকারি কর্মকর্তা, প্রতিবন্ধিতা নিয়ে কর্মরত বেসরকারি সংস্থা, সাংবাদিক, আইনজীবী, প্রতিবন্ধী শিশুদের আবাসিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, শিক্ষক, প্রতিবন্ধী শিশু, প্রতিবন্ধী শিশুর অভিভাবক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি।