প্রতিবন্ধী শিশুদের অরক্ষিত অবস্থা বিষয়ক গবেষণার তথ্যবিনিময়ে জাতীয় সেমিনার

১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন (বিএমএ), ঢাকা

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন (বিএমএ), ঢাকাতে ‘নিম্ন আয়ের পরিবারের প্রতিবন্ধী শিশুদের অরক্ষিত অবস্থা বিষয়ক গবেষণার তথ্য বিনিময় সেমিনার’ অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারের উদ্দেশ্য হলো- সম্প্রতি প্রতিবন্ধী শিশু যারা পথঘাটে, বস্তিতে ও বাড়িতে বসবাস করে তাদের অরক্ষিত অবস্থা নিয়ে সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশ একটি গবেষণা করেছে। এই গবেষণাপত্রের তথ্যসমূহ তথা পথ শিশু, বস্তিবাসি শিশু ও বাড়িতে বসবাসকারি শিশুরা তাদের জীবন যাপনে যে অরক্ষিত অবস্থার শিকার হয় তা সরকারের উর্দ্ধতন কর্তৃপকক্ষ, বেসরকারি সংস্থা/প্রতিষ্ঠান ও প্রতিবন্ধী শিশুদের যতœদানকারি ও অভিভাবকদের নজরে আনা ও অরক্ষিত অবস্থা উত্তরণের জন্য তাদেরকে উদ্যোগী করা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেছিলেন জনাব মোঃ জিল্লার রহমান, সচিব, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব সুশান্ত কুমার প্রামাণিক, অতিরিক্ত সচিব (প্রতিষ্ঠান ও প্রতিবন্ধিতা), সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, খোন্দকার মোস্তান হোসেন, যুগ্ম সচিব (রপ্তানীমুখী শিল্প ও আইন), শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জনাব জুলফিকার হায়দার, পরিচালক (প্রতিষ্ঠান), সমাজসেবা অধিদফতর। প্রধান অতিথি বক্তব্যের শুরুতে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে প্রশ্ন/মতামত আহ্বান করেন। তার প্রেক্ষিতে অংশগ্রহণকারীগণ জানান যে, চলাচলের রাস্তা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উপযোগী নয়, মার্কেটগুলো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য প্রবেশগম্য নয়, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ছেলে ও মেয়েদের একই হোস্টেলে রাখার ব্যবস্থা করা হয় যার ফলে নানা দুর্ঘটনা ঘটে, পিএইচটিসি কে উচ্চ বিদ্যালয়ে উন্নীত করা ও স্টাফদের সেবামান উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান, স্টাফ ঘাটতি পূরণে ব্যবস্থা গ্রহণ, একইভূত শিক্ষা বাস্তবায়ন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইনের জেলা ও উপজেলা কমিটি সক্রিয় করা, অবকাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের সাথে সমন্বয় বাড়ানো, মিডিয়াতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সক্ষমতা নিয়ে প্রচার প্ররাচরণা চালানো। 
 
প্রধান অতিথি বিষয়গুলোর উপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, আর্থিক কালচারের উপর সংস্কৃতি নির্ভর করে। প্রতিবন্ধিতার জন্য অতিরিক্ত খরচ করতে হয়। এ খরচের সংস্থান আমাদের করতে হবে। উন্নত দেশগুলোতে সেবা বাসায় দিয়ে আসা হয়। আমাদেরও সে চর্চা শুরু করতে হবে। প্রতিবন্ধী ও অপ্রতিবন্ধী শিশুরা একসাথে পড়াশোনা করবে। বিশেষ অতিথি জনাব সুশান্ত কুমার প্রামাণিক বর্তমান সরকারকে প্রতিবন্ধী বান্ধব সরকার উল্লেখ করে বলেন তাদের মন্ত্রণালয় প্রতিবন্ধী শনাক্তকরণ জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করছে; এ পর্যন্ত ১৫ লক্ষ ৯ হাজার ৮১৬ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে যেখানে তাদের চাহিদা নিরূপণ করা হয়েছে। তাদের চাহিদা মোতাবেক সরকার সহায়তা দিয়ে যাবে। বিশেষ অতিথি জনাব খোন্দকার মোস্তান হোসেন জানান শ্রম আইন অনুযায়ী ১৪ বছরের নীচে কোনো শিশুকে কাজে নিযুক্ত করা যাবে না। ১৪-১৮ বৎসরের শিশুকে কোনো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ দেওয়া যাবে না। অরক্ষিত শিশুদের ঝুঁকি মোকাবেলায় সামাজিক সচেতনতার উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ অতিথি জনাব জুলফিকার হায়দার জানান সমাজসেবা অধিদফতর প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তাদের পরিসংখ্যান নেই সেটা আমরা বলতে পারি না। সমাজসেবা অধিদফতর প্রতিবন্ধী শিশুদের আবাসিক শিক্ষা, সমন্বিত শিক্ষা, শিক্ষা উপবৃত্তি, প্রতিবন্ধী ভাতা ইত্যাদি প্রদান করে তাদের অরক্ষিত অবস্থা নিরসনে কাজ করছে। জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামের সভাপতি ও সেমিনারের সভাপতি জনাব রজব আলি খান নজিব প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বিষয়ক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে প্রতিবন্ধী মানুষের মোর্চা হিসেবে জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামকে সম্পৃক্ত করার জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি জাতীয় কর্মপরিকল্পনায় প্রতিবন্ধী শিশুদের ঝুঁকির বিষয়গুলো তুলে আনার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন। জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামের মহসাসচিব ড. সেলিনা আখতার প্রতিবন্ধী শিশুদের এ অরক্ষিত অবস্থার উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন যেন তারা এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

অংশগ্রহণকারীদের সুপারিশমালা:

    আবাসিক প্রতিষ্ঠানের পদগুলো বদলীযোগ্য বলে প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনায় প্রায়ই সমস্যা হয়। এছাড়া প্রতিবন্ধী শিশুদের মোকাবেলা বিষয়ে তাদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ      প্রয়োজন।
    গবেষণায় পথ শিশুদের সংখ্যা কম এসেছে, এদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে।
    বিদ্যালয়ে ও কর্মস্থলে শিশুদের ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করা হয়, এতে করে শিশুরা পড়াশোনার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে; এ ব্যাপারে সচেতনতা তৈরির কাজ করতে হবে।
    বাবা, মায়েরা প্রতিবন্ধী শিশুদের ক্ষেত্রে যে বৈষম্য তৈরি করে সেক্ষেত্রে তাদের দায়িত্ববোধ তৈরির জন্য কাজ করতে হবে।
    গণমাধ্যমে প্রতিবন্ধী শিশুদের ঝুঁকির বিষয়গুলো বেশি করে প্রচার করতে হবে।
    জাতীয় কর্মপরিকল্পনায় ঝুঁকির বিষয়গুলো অন্তর্ভক্ত হতে হবে।
    গবেষণা কার্যক্রম যেখানে দারিদ্র বেশি, যোগাযোগ ব্যবস্থা অপেক্ষাকৃত খারাপ, নদী ভাঙ্গন রয়েছে ইত্যাদি এলাকায় করতে হবে।

সেমিনারে ৭৫জন অংশগ্রহণকারী ছিলেন যারা সকারি কর্মকর্তা, প্রতিবন্ধিতা নিয়ে কর্মরত বেসরকারি সংস্থা, সাংবাদিক, আইনজীবী, প্রতিবন্ধী শিশুদের আবাসিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, শিক্ষক, প্রতিবন্ধী শিশু, প্রতিবন্ধী শিশুর অভিভাবক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি। 

Event Tag
Event Image
প্রতিবন্ধী শিশুদের অরক্ষিত অবস্থা বিষয়ক গবেষণার তথ্যবিনিময়ে জাতীয় সেমিনার (১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ )