আবাসিক প্রতিষ্ঠানে বসবাসরত প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রমিত সেবামান নিশ্চিতকরণ বিষয়ক আলোচনা সভা (খুলনা)

১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭          সকাল ১০টা         স্কুল হেল্থ ক্লিনিক এর সম্মেলন কক্ষ, খুলনা

বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী শিশুদের কোন সঠিক পরিসংখ্যান নেই। সেভ দ্য চিলড্রেনের একটি প্রতিবেদনে দেখা যায় যে, বাংলাদেশে -১০ মিলিয়ন শিশু রয়েছে যারা কোনোনা কোনোভাবে প্রতিবন্ধী। দেশের বহুসংখ্যক প্রতিবন্ধী শিশু অবহেলিত এবং তারা রাস্তায় বস্তিতে বসবাস করছে। আবার সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন আবাসিক প্রতিষ্ঠানে অনেক প্রতিবন্ধী-অপ্রতিবন্ধী শিশুরা বসবাস করছে। কিন্তু এসব আসাবিক প্রতিষ্ঠানে বসবাসরত শিশুরা এমনকি প্রতিবন্ধী শিশুরাও নানা রকম সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত সেভ দ্য চিলড্রেন এর ইনক্লুসিভ প্রোটেকশন অ্যান্ড অ্যামপাওয়ারমেন্ট প্রজেক্ট ফর চিলড্রেন উইথ ডিস্অ্যাবিলিটিস ২০১৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রতিবন্ধী পথ শিশু, বস্তিবাসী শিশু সাধারণ বাড়িতে বসবাসকারী প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে একটি গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে। গবেষণায় দেখা যায় যে, প্রতিবন্ধিতার কারণে শিশুরা বিভিন্ন ধরনের বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। আর এই বৈষম্যগুলো উত্থিত হয় প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক বোধগম্যতা জ্ঞানের অভাবে, ভিন্নতার ভয়ের কারণে, রোগ সংক্রমণ দূষণের সংশ্লিষ্টতা থাকার কারণে, ধর্মীয় নেতিবাচক প্রভাব থাকার কারণে, সামাজিক সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে। কিছু বিষয় যেমন-দারিদ্র, সামাজিক বিচ্ছিন্নকরণ, কুসংস্কার, কলঙ্ক, সেবায় প্রবেশাধিকারের অভাব, অনুপযোগী পরিবেশ বিষয়টিকে অধিকতর খারাপ করে।

জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরাম এবং রূপসা এর সংস্থার যৌথ উদ্যোগে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ খুলনা শহরস্থ স্কুল হেল্থ ক্লিনিক এর সম্মেলন কক্ষে আবাসিক প্রতিষ্ঠানে বসবাসরত প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রমিত সেবামান নিশ্চিতকরণ বিষয়ক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামের জাতীয় নির্বাহী কমিটির খুলনা বিভাগীয় প্রতিনিধি জনাব . . মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা প্রশাসক জনাব নাজমুল আহসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সোনাডাঙ্গা অঞ্চলের সহকারী পুলিশ কমিশনার জনাব সোনালী সেন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক জনাব সুকান্ত কুমার সরকার, জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জনাব মো. মোস্তাক উদ্দীন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রূপসা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক জনাব হিরন্ময় মন্ডল। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামের সমন্বয়কারী (কর্মসূচি) জনাব মোশাররফ হোসেন। একই সাথে তিনি প্রকল্পের উদ্দেশ্য এবং জাতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন।

স্বাগত বক্তব্য :

জনাব হিরন্ময় মন্ডল, নির্বাহী পরিচালক

রূপসা, খুলনা।

জনাব হিরন্ময় মন্ডল উপস্থিত সকলকে স্বাগত জানান। শুরুতেই তিনি রূপসা সংস্থার বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি সকলকে অবহিত করেন। তিনি জানান আমাদের দেশের প্রতিবন্ধী শিশুরা সবচেয়ে বেশি অবহেলিত বঞ্চনার শিকার হয়। শুধুমাত্র গরীব বা নিন্ম পরিবারের ক্ষেত্রেই নয়, অনেক ধনী পরিবারের ক্ষেত্রেও এটি পরিলক্ষিত হয়। বিশেষ করে আমরা দেখতে পাই যে, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বসবাসরত শিশুরা বিশেষ করে প্রতিবন্ধী শিশুরা নানাভাবে অবহেলিত। এটি খুব দুঃখজনক। এইসব প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতি আমাদের অতিরিক্ত যতœ নেওয়া প্রয়োজন।  তাদের  সুরক্ষার প্রতি আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। আলোচনা সভায় উপস্থিত হওয়ায় সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন এবং ফোরামের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিতকরণ

জনাব মোশাররফ হোসেন, সমন্বয়কারী (কর্মসূচি)

জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরাম, ঢাকা

জনাব মোশাররফ হোসেন এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য কার্যক্রম সংক্ষেপে অংশগ্রহণকারীদের অবহিত করেন। জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, ১৯৯১ সাল থেকে বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সম-অধিকার, সম-সুযোগ নিশ্চিত করতে জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরাম কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরাম মূলত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার, আইন নীতিমালার বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে অ্যাডভোকেসি পরিচালনা, সদস্য সংগঠনসমূহের মধ্যে নেটওয়ার্কিং এবং জাতীয় পর্যায়ে সচেতনতা তৈরিতে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই প্রকল্পের বিষয়ে তিনি বলেন, সিএসআইডি, সিডিডি স্থানীয় পর্যায়ে এই প্রকল্পের কার্যক্রমসমূহ বাস্তবায়ন করছে। তিনি বলেন, একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিষ্ঠিত আবাসিক প্রতিষ্ঠানে বসবাসরত প্রতিবন্ধী শিশুরা অবহেলিত অবস্থায় দিনযাপন করছে। তারা তাদের প্রাপ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এমনকি অনেক সময় তারা বিভিন্ন ভাবে শারীরিক মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এদের সুরক্ষায় সকলকে একসাথে কাজ করার আহবান জানান।

মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণকারীগণ নিন্মোক্ত সুপারিশমালা প্রদান করেন:

- আবাসিক প্রতিষ্ঠানগুলো সব সময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী শিশুদের ব্যবহার উপযোগী টয়লেট স্থাপন এবং টয়লেটসমূহ পরিস্কার রাখতে হবে।

- আবাসিক প্রতিষ্ঠানে বসবাসরত শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বিভিন্ন রোগ থেকে সুরক্ষার লক্ষ্যে রাতে ঘুমানোর সময় তাদের মশারির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় টিকা, ভ্যাকসিন ইত্যাদি প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।

- প্রতিবন্ধী শিশুদের সুরক্ষার লক্ষ্যে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গহণ করতে হবে। বিষয়ে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিগণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সাংবাদিকগণ তাদের লেখনির মাধ্যমে বিষয়গুলো তুলে ধরতে পারে।

- প্রতিবন্ধী শিশুদের বিনোদনের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

- তাদের অধিকার সম্পর্কে অবহিত করতে হবে।

- শিশু পরিবার, ছোটমণি নিবাস, প্রতিবন্ধী শিশুদের আবাসিক প্রতিষ্ঠান, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের সমন্বিত প্রতিষ্ঠানসহ সকল আবাসিক প্রতিষ্ঠানে অবস্থানরত প্রতিবন্ধী শিশুদের উপর কোন প্রকার নির্যাতন বা নিপীড়ন করা যাবে না।

- জেলা সমাজসেবা কার্যালয় এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট সময়ে এবং কখনো কখনো আকস্মিক পরিদর্শন করতে হবে।

- আবাসিক প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধায়কদের প্রতিবন্ধী শিশুদের বিষয়ে যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে।

- প্রতিবন্ধী শিশসহ সকলের মানসিক শারীরিক বিকাশের লক্ষ্যে বিভিন্ন খেলাধুলা সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে হবে।

- বিভিন্ন কার্যক্রমে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করতে হবে।

- বিভিন্ন বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের সহযোগিত গ্রহণ করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য :

জনাব মো. মোস্তাক উদ্দীন, উপ-পরিচালক

জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, খুলনা

উপস্থিত সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এতিম, পথশিশু প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে আবাসিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে তাদেরকে মাতৃস্নেহে লালন-পালন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তারপরেও নানা সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের যতটুকু প্রয়োজন আমরা ততটুকু সেবা দিতে পারিনা। এটি আমাদের ব্যর্থতা। সরকারের পক্ষ থেকে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমরা প্রায়শই লক্ষ্য করি যে, রাস্তার পাশে মহিলারা শিশুকে নিয়ে ভিক্ষা করতে দেখি। তাদের ধারণা শিশু বা প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে ভিক্ষা করলে বেশি ভিক্ষা পাওয়া যাবে। ফলে এক সময় শিশুটি বড় হয়ে ভিক্ষা অথবা অন্য কোন খারাপ পেশায় জড়িয়ে যাচ্ছে। তিনি জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দারিদ্র দুরীকরণের কার্যক্রম গ্রহণের কথা বলেন। খুলনা জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অধীনে কোন আবাসিক প্রতিষ্ঠান নেই। তবে জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে অনেক যুবরা স্বাবলম্বী হয়েছে। এদের মধ্যে অনেক প্রতিবন্ধী যুবও রয়েছে। তাদেরকে প্রশিক্ষণ প্রদান শেষে বিভিন্ন মেয়াদের ঋণ প্রদান করা হয়। যা তাদের প্রশিক্ষণ শেষে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করে। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, আগামীতে বিভিন্ন প্রকার প্রশিক্ষণে অবশ্যই আমরা প্রতিবন্ধী যুবদের এবং একই সাথে প্রতিবন্ধী শিশুদের মায়েদের অগ্রাধিকার প্রদান করা হবে। সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় তাদের অধিকার সুরক্ষা করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য :  

জনাব সোনালী সেন, সহকারী পুলিশ কমিশনার

সোনডাঙ্গা অঞ্চল, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ, খুলনা 

এরপর বক্তব্য রাখেন বিশেষ অতিথি হিসাবে আমন্ত্রিত খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সোনাডাঙ্গা অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার জনাব সোনালী সেন। তিনি বলেন, আজকের শিশুই আগামীদিনের ভবিষ্যত। তিনি বলেন, আমাদের দেশে শিশুদের দেখভাল করার জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে কিছু আবাসিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং নির্যাতিত নারীদের শিশুদের দেখভাল করা চিকিৎসা প্রদান এবং আইনি সহায়তা প্রদানের জন্য স্বরাস্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মহিলা শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে কিছু সেফ হোম রয়েছে। তিনি বলেন, একজন শিশু প্রতিবন্ধী হলেই সে সকল প্রকার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে এটা ঠিক নয়। বরং একজন শিশু প্রতিবন্ধী হলে তার আরো বেশি সুরক্ষার প্রয়োজন। অনেক সময় আমরা দেখি, বিভিন্ন আবাসিক প্রতিষ্ঠানে অবস্থানরত শিশুরা বিশেষ করে প্রতিবন্ধী শিশুরা নানা রকমের শারীরিক মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকে। এই ঘটনা যাতে না ঘটে সেদিকে আমাদের আরো যত্নবান হওয়া উচিত। মাতৃস্নেহে তাদের লালন-পালন করতে হবে। যদিও আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তিনি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসমূহকে এগিয়ে আসার আহবান জানান। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন যে, ভবিষ্যতে যদি কোন শিশু বিশেষ করে প্রতিবন্ধী শিশুরা যদি কোন নির্যাতনের শিকার হয়, তাহলে নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি সকলের মানসিকতার পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, বিষয়ে আমাদের সচেতনতামূলক কার্যক্রম বৃদ্ধি করতে হবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা সাফল্যের পথে এগিয়ে যাব, সেই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য :  

জনাব সুকান্ত কুমার সরকার, উপ-পরিচালক

জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, খুলনা 

এরপর বক্তব্য রাখেন বিশেষ অতিথি জনাব সুকান্ত কুমার সরকার, উপ-পরিচালক, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, খুলনা। তিনি সমাজসেবা কার্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমের বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নের জন্য অনেক কাজ করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি, অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ভাতার পরিমাণ এবং উপকারভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে। অটিস্টিক শিশুদের জন্যও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। খুলনায় ইতোমধ্যে প্রতিবন্ধী সেবা সাহায্য কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। যেকোনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এই সেবা সাহায্য কেন্দ্র থেকে থেরাপি বা অন্যান্য চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে পারে। তিনি প্রতিবন্ধিতা জরিপ কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে এখনো যে সব প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সনাক্তকরণ জরিপে অংশগ্রহণ করেননি তাদের এই কার্যক্রমে অংশগ্রহণের আহবান জানান। তিনি বলেন, আগামীতে শুধুমাত্র নিবন্ধকৃত প্রতিবন্ধী ব্যক্তি শিশুকেই সরকার থেকে সকল প্রকার সহযোগিতা প্রদান করা হবে। আবাসিক প্রতিষ্ঠানের শিশুদের প্রমিত সেবামান বিষয়ে তিনি বলেন, অনেকেই আবাসিক প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন অনিয়মের কথা বলেছেন। কিন্তু আমাদের সীমিত সামর্থ্য দিয়ে চেষ্টা করছি যাতে আবাসিক প্রতিষ্ঠানের শিশুদের ভালভাবে দেখাশুনা করা যায় এবং তাদের যতœ নেওয়া যায়। তিনি বলেন, আমাদের শুধু আর্থিক সীমাবদ্ধতাই নয়, আমাদের লোকবলেরও অভাব রয়েছে। এদের ব্যাপারে আমাদের সচেতনতা বাড়াতে হবে। বিষয়ে শুধুমাত্র সরকারি নয়, বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোক্তাদেরও এগিয়ে আসার আহবান জানান। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সম্ভব আবাসিক প্রতিষ্ঠানের বসবাসরত শিশুদের অধিকার সুরক্ষা এবং একই সাথে তাদের সেবারমান বৃদ্ধি করা।

প্রধান অতিথির বক্তব্য :

জনাব নাজমুল আহসানমিনু শীল

জেলা প্রশাসক. খুলনা

এরপর বক্তব্য রাখেন প্রধান অতিথি জনাব নাজমুল আহসান, জেলা প্রশাসক, খুলনা। প্রথমেই তিনি সুন্দর তথ্যনির্ভর একটি প্রবন্ধ উপস্থাপনের জন্য জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামের সমন্বয়কারী জনাব মোশাররফ হোসেনকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এটা সত্যি যে, সরকারের নানা প্রচেষ্টা থাকা সত্ত্বেও আমাদের দেশে প্রতিবন্ধী শিশুরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত। প্রায় পত্রিকা বা মিডিয়ায় এই প্রতিবন্ধী শিশুদের নির্যাতনের খবর দেখতে হয়। যা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অনাকাক্সিক্ষত। তিনি হুশিয়ার উচ্চারণ করে বলেন, খুলনায় অবস্থিত বিভিন্ন আবাসিক প্রতিষ্ঠানে শিশু বিশেষ করে প্রতিবন্ধী শিশুরা যাতে কোনো প্রকার হয়রানি বা নির্যাতনের শিকার না হয়। তাহলে নির্যাতনকারী ব্যক্তিকে অবশ্যই শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। তিনি বলেন, শিশুরা শুধুমাত্র শারীরিক নয়, মানসিক নির্যাতনেরও শিকার হয়ে থাকে। যা শিশুর মানসিক বিকাশ লাভে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এটি খুবই দুঃখজনক।  তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতিবন্ধী শিশুসহ সকল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিষয়ে সংবেদনশীল। প্রতিবন্ধী শিশুদের নিরাপত্তাহীনতায় রেখে আমরা কখনো নিজেদের উন্নত জাতি হিসাবে দাবী করতে পারবো না। পরিবারের অন্যান্য সন্তানের চেয়ে প্রতিবন্ধী শিশুটির বেশি যতœ নেয়ার জন্য প্রতিবন্ধী শিশুদের অভিভাবকদের প্রতি আহবান জানান। তিনি বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। পরিবার, সমাজ বা রাষ্ট্র সব জায়গায় প্রতিবন্ধী শিশুরা যাতে সুরক্ষিত থাকে, সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। তিনি আয়োজককারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে ধরনের কার্যক্রম আরো বেশি করে গ্রহণের আহবান জানান। যাতে সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিশেষ করে শিশুদের বিষয়ে সকল প্রকার সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ব্যক্তি সমাজ রাষ্ট যদি একসাথে কাজ করে তাহলে এই শিশুরা অবশ্যই সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। তারাই ভবিষ্যতে গড়বে আলোকিত বাংলাদেশ।

সভাপতির বক্তব্য :

জনাব .. মেহেদী হাসান

জাতীয় নির্বাহী কমিটির খুলনা বিভাগীয় প্রতিনিধি

জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরাম। 

সবশেষে বক্তব্য রাখেন জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামের জাতীয় নির্বাহী কমিটির খুলনা বিভাগীয় প্রতিনিধি জনাব . . মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরাম সব সময় সমাজে পিছিয়ে পড়া প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর সম-সুযোগ, সম-অধিকার নিয়ে কাজ করে। উন্নয়নের মূলস্রোতধারায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করাই হলো জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামের মূল লক্ষ্য তিনি বলেন, প্রায়শই দেখা যায় যে, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন আবাসিক প্রতিষ্ঠানে বসবাসরত শিশুরা বিশেষ করে প্রতিবন্ধী শিশুরা বিভিন্ন সেবা থেকে বঞ্চিত। শুধুমাত্র বঞ্চিতই নয়, অনেক সময় দেখা যায় যে তারা নানা ধরনের শারীরিক মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আমরা সব সময় শুনে থাকি যে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কথা। কিন্তু আমরা তাদের মাতৃস্নেহে আদর ভালবাসা দিয়ে বড় করতে পারি। এক্ষেত্রে অর্থ নয়, বরং ইতিবাচক মানসিক পরিবর্তন দরকার। এটি তাদের মানসিক বিকাশ লাভে সাহায্য করবে। তিনি বলেন, হয়তো জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামের পক্ষে সব সময় জেলা বা বিভাগীয় শহরে যেয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব নাও হতে পারে। এক্ষেত্রে স্থানীয় বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসমূহকে এগিয়ে আসতে হবে। জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামের পক্ষ থেকে বিষয়ে সকল প্রকার সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। সবশেষে শত ব্যস্ততার মাঝেও আলোচনা সভায় উপস্থিত থাকার জন্য প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথিসহ উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।

আলোচনা সভায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে কর্মরত বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, ছাত্র, শিক্ষক, সরকারী, বেসরকারী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি, আইনজীবী, গণমাধ্যমের প্রতিনিধিসহ প্রায় একশত অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন।

 

Event Tag
Event Image
 আবাসিক প্রতিষ্ঠানে বসবাসরত প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রমিত সেবামান নিশ্চিতকরণ বিষয়ক আলোচনা সভা (খুলনা)